Best Homeopathic Treatment

যৌন রোগ কাকে বলে

যৌন রোগ কাকে বলে

হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিতে যৌন রোগ কাকে বলে

যে সকল রোগ প্রধানত যৌন সংসর্গের মাধ্যমে একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়, এবং যেগুলোর সংক্রমণের মূল কেন্দ্র হিসেবে যৌনাঙ্গ ও প্রজনন তন্ত্র কাজ করে, সেগুলোকে যৌন রোগ বলা হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব রোগকে Sexually Transmitted Diseases (STD) বা Sexually Transmitted Infections (STI) নামে অভিহিত করা হয়। যৌন রোগ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস অথবা পরজীবী দ্বারা সংঘটিত হতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করে।

আধুনিক চিকিৎসা গ্রন্থে বলা হয়েছে—
“Sexually transmitted diseases are infections primarily spread through sexual contact.”

(Harrison’s Principles of Internal Medicine)

হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিতে যৌন রোগ

হোমিওপ্যাথির জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান যৌন রোগকে কেবল একটি স্থানীয় সংক্রমণ হিসেবে দেখেননি; বরং তিনি এগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী মিয়াজমজাত রোগ (Chronic Miasmatic Diseases) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হ্যানিম্যানের মতে, যৌন রোগ শরীরের জীবনীশক্তি (Vital Force)-কে গভীরভাবে আক্রান্ত করে এবং সঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা না হলে রোগ বহু বছর ধরে নানান রূপে প্রকাশ পায়।

Organon of Medicine গ্রন্থের ৭৯–৮১ নং অনুচ্ছেদে হ্যানিম্যান সিফিলিস ও গনোরিয়াকে দুটি প্রধান দীর্ঘস্থায়ী মিয়াজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সিফিলিস কী এবং কেন এটি যৌন রোগ

সিফিলিস একটি মারাত্মক সংক্রামক যৌন রোগ, যার কারণ হলো Treponema pallidum নামক ব্যাকটেরিয়া। এই রোগের প্রধান সংক্রমণ পথ হলো অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে সাধারণত যৌনাঙ্গে ব্যথাহীন শক্ত ঘা (Hard Chancre) দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে রোগটি প্রথমে যৌনাঙ্গের মাধ্যমেই শরীরে প্রবেশ করে।

সিফিলিস শুধু যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেই নয়, আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে, যাকে Congenital Syphilis বলা হয়। তবুও পরিসংখ্যানগত ও চিকিৎসাবৈজ্ঞানিকভাবে এর প্রধান সংক্রমণ পথ যৌন সংসর্গ হওয়ায় একে যৌন রোগ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

(WHO – Sexually Transmitted Infection Guidelines)

হোমিওপ্যাথিতে সিফিলিস (Syphilitic Miasm)

ডা. হ্যানিম্যান সিফিলিসকে একটি ধ্বংসাত্মক মিয়াজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এই মিয়াজম শরীরের গভীর স্তরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে হাড়, স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং মানসিক অবস্থার উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। বাহ্যিক ঘা বা লক্ষণ দমন করলে রোগ আরও গভীরে প্রবেশ করে এবং ভবিষ্যতে পক্ষাঘাত, মানসিক বিকার কিংবা অঙ্গহানির মতো জটিলতা সৃষ্টি করে।

Chronic Diseases গ্রন্থে হ্যানিম্যান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে,
“Syphilis is a chronic miasmatic disease originating from impure sexual contact.”

গনোরিয়া কী এবং কেন এটি যৌন রোগ

গনোরিয়া একটি সংক্রামক যৌন রোগ, যার কারণ Neisseria gonorrhoeae নামক ব্যাকটেরিয়া। এই রোগ প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায় এবং নারী ও পুরুষ উভয়ের মূত্রনালি ও যৌনাঙ্গকে আক্রান্ত করে। এর প্রধান লক্ষণ হলো পুঁজযুক্ত স্রাব, প্রস্রাবের সময় জ্বালা ও ব্যথা।

গনোরিয়া সাধারণত যৌন সংসর্গ ব্যতীত ছড়ায় না এবং রোগের লক্ষণগুলো সরাসরি যৌন ও প্রজনন তন্ত্রে প্রকাশ পায়। এ কারণেই আধুনিক ও হোমিওপ্যাথিক উভয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে গনোরিয়াকে একটি স্পষ্ট যৌন রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

(Harrison’s Principles of Internal Medicine)

হোমিওপ্যাথিতে গনোরিয়া (Sycosis Miasm)

হোমিওপ্যাথিতে গনোরিয়াকে Sycosis মিয়াজম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ডা. হ্যানিম্যান বলেন, গনোরিয়ার স্রাব জোরপূর্বক দমন করা হলে রোগ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের জন্ম দেয়। Sycosis মিয়াজমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অতিবৃদ্ধি, ঘন স্রাব, আঁচিল বা Condyloma এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ।

Chronic Diseases গ্রন্থে বলা হয়েছে—
“Sycosis originates from suppressed gonorrhoeal discharge.”

যৌন রোগের প্রধান কারণসমূহ

যৌন রোগ সৃষ্টির পেছনে প্রধান কারণ হলো অসুরক্ষিত ও অনিয়ন্ত্রিত যৌন আচরণ। একাধিক যৌন সঙ্গী, কন্ডম ব্যবহার না করা, যৌন রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং পূর্ববর্তী যৌন রোগের অসম্পূর্ণ বা দমনমূলক চিকিৎসা এসব রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

(WHO, CDC STD Reports)

যৌন রোগের প্রতিকার ও চিকিৎসা

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সিফিলিস ও গনোরিয়ার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয় এবং রোগীর পাশাপাশি তার যৌন সঙ্গীর চিকিৎসাও বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে হোমিওপ্যাথিতে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ, মানসিক অবস্থা ও মিয়াজম বিবেচনা করে একক সদৃশ ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। হোমিওপ্যাথির মূলনীতি অনুযায়ী, রোগ দমন নয় বরং জীবনীশক্তিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই প্রকৃত চিকিৎসা।

Organon of Medicine – Aphorism 3, 26, 203–205

উপসংহার

সিফিলিস ও গনোরিয়া উভয়ই যৌন রোগ, কারণ এগুলোর প্রধান সংক্রমণ পথ যৌন সংসর্গ এবং রোগের সূচনা যৌনাঙ্গকে কেন্দ্র করেই ঘটে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এগুলোকে ব্যাকটেরিয়াজনিত STD হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর হোমিওপ্যাথিতে এগুলো যথাক্রমে Syphilitic ও Sycotic মিয়াজম হিসেবে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত। সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে চিকিৎসা গ্রহণ না করলে এসব রোগ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

যৌন রোগ কাকে বলে
যৌন রোগ কাকে বলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *