Best Homeopathic Treatment

জীবনী শক্তির বিশৃঙ্খলা রোগ ব্যাখ্যা কর ?

জীবনী শক্তি

জীবনী শক্তির বিশৃঙ্খলা রোগ ব্যাখ্যা কর ?

হোমিওপ্যাথিক নিয়ম অনুযায়ী জীবনী শক্তির বিশৃঙ্খলা রোগ (Vital Force Disorder) মানব শরীরের সুষম ভারসাম্যের অভাবকে বোঝায়। হোমিওপ্যাথির জনক স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের মতে, জীবনী শক্তি মানব দেহে সুস্থতার প্রধান ভিত্তি। এই শক্তি যখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে, তখন শরীর সুস্থ থাকে; কিন্তু যখন এটি বিকৃত হয়, তখন রোগের উৎপত্তি হয়। জীবনী শক্তির এই বিশৃঙ্খলা শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে এবং বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায়।

হ্যানিম্যানের মতে, রোগ কেবল বাহ্যিক লক্ষণ নয়, বরং শরীরের অন্তর্নিহিত শক্তির অসামঞ্জস্য। তিনি হোমিওপ্যাথিতে তিনটি প্রধান রোগ উৎপাদক শক্তির কথা উল্লেখ করেছেন—এসোরা, সিফিলিস, ও সাইকোসিস। প্রতিটি রোগের চিকিৎসা জীবনী শক্তির উপর নির্ভর করে। রোগ নিরাময়ে যথাযথ পদ্ধতিতে জীবনী শক্তির পুনঃস্থাপন করা হলে শরীর আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে জীবনী শক্তি (Vital Force) ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যামুয়েল হ্যানিম্যান তার বিখ্যাত গ্রন্থ “অর্গানন অফ মেডিসিন”-এ জীবনী শক্তির ব্যাখ্যা দেন, যেখানে তিনি মানব শরীরের সুস্থতার প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে একে চিহ্নিত করেছেন।

জীবনী শক্তির বিশৃঙ্খলা

হোমিওপ্যাথিক মতানুসারে, জীবনী শক্তি আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালিত করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। এই শক্তি যখন সুষম থাকে, তখন দেহের সমস্ত অংশ সুস্থভাবে কাজ করে। কিন্তু যখন এই শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।

রোগ সৃষ্টির কারণ

হ্যানিম্যান মনে করতেন যে রোগ শুধু বাহ্যিক লক্ষণ নয়, বরং এটি দেহের অভ্যন্তরীণ জীবনী শক্তির বিপর্যয়ের প্রতিফলন। তিনি রোগের উৎসকে তিনটি মায়াসম বা গভীরতর রোগ প্রবণতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন:

  • এসোরা (Psora): এটি জীবনী শক্তির দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতার কারণ, যার ফলে ত্বকের সমস্যাসহ অনেক ধরণের দীর্ঘস্থায়ী রোগ হয়।
  • সিফিলিস (Syphilis): এটি জীবনী শক্তির গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার কারণ হয়।
  • সাইকোসিস (Sycosis): এটি অতিরিক্ত বৃদ্ধি এবং স্ফীতি ঘটায়, যেমন গাঁট, টিউমার বা ওয়ার্ট।

চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিতে রোগ নিরাময়ের জন্য জীবনী শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গগুলো পর্যবেক্ষণ করে সেই অনুযায়ী সমবৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষুধ নির্ধারণ করেন, যা রোগের প্রকৃত কারণকে দূর করে জীবনী শক্তির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

বইয়ের রেফারেন্স:

  • হ্যানিম্যান, স্যামুয়েল – “অর্গানন অফ মেডিসিন”
  • কেন্ট, জেমস টাইলার – “Lectures on Homeopathic Philosophy”

4o

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *